বাঞ্ছারামপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ ক্লিনিকের ছড়াছড়ি, অভিযান চালাতে প্রশাসনের অনীহা

news-image

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দালালদের মদদে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে চলছে রমরমা বাণিজ্য। উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থাকলেও কোনো প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই চারপাশে গড়ে উঠেছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিশেষ করে প্রশাসন ও সরকারি হাসপাতালের নাকের ডগায় ল্যাব এইড নামে একটি হাসপাতাল কোন প্রকার অনুমতি বা কাগজপত্র ছাড়াই দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা চিকিৎসা বানিজ্য। অথচ,প্রায় প্রতিটি ক্লিনিক সরকারি হাসপাতালের ৫০ থেকে ১০০ গজ দুরুত্বে অবস্থিত।

এগুলোর আশপাশে রয়েছে নামসর্বস্ব প্রায় দেড় ডজন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হলো সরকারি হাসপাতাল থেকে কৌশলে রোগী এনে বাণিজ্য করা। এ জন্য রয়েছে দালাল চক্র। হাসপাতালে আসা রোগীদের নানা প্রলোভনে তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দালাল চক্রের সদস্যরা রোগীদের ছলছাতুরী করে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা করায়। এসময় হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। বাড়তি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করালেও সবসময় সঠিক রোগ নির্ণয় হচ্ছে না। সেন্টারগুলোর পরীক্ষকদের যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আয়া ও নন-টেকনিশিয়ান দিয়ে সেখানে পরীক্ষা করানো হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাঞ্ছারামপুর ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে আসা ফরদাবাদের বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘শরীর হঠাৎ ফুলে যাওয়ায় মেয়েকে ডাক্তার দেখিয়েছেন। ডাক্তার একাধিক পরীক্ষা করতে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এর আগেও আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়ের টেস্ট করেছিলাম। কোনো রোগ ধরা পড়েনি। এখন এক লোক এখানে নিয়ে এসেছে। বলল, এখানে পরীক্ষা করলে ভালো হবে।’

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সরকারি হাসপাতালের পাশে ল্যাবএইড হাসপাতালে কয়েকজন সংবাদকর্মী গিয়ে দেখতে পায়, বিপুল রোগীর সমাগম। দালালের মাধ্যমে রোগী এনে ব্যবসা চলছে। অথচ এখানে রোগ নির্ণয় করার পরিপূর্ণ ব্যবস্থা নেই। মালিকের খোজ জানতে চাইলে রিসেপশনিস্ট জানায়,তিনি নাই,সরকারি হাসপাতালে গেছেন।”

অভিযুক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মোশাররফ হোসেন পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বলেন, আমি বৈধ ভাবে ব্যবসা করছি।অনুমতির জন্য কাগজপত্র জেলায় জমা দেয়া আছে।

আল মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, ‘সরকারি হাসপাতালে নানা দুর্ভোগের কারণেই রোগীরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে চলে আসেন। সেবা পান ভালো, তাই এত ভিড়।’

অভিযোগ রয়েছে, একেক ক্লিনিকে একই টেষ্টের মূল্য আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তারা নিম্নমানের রিএজেন্ট ব্যবহার করছেন। তাদের নেই প্রশিক্ষিত কোন নার্স বা টেকনিশিয়ান।ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান করেন না।নেই নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

বাঞ্ছারামপুর ৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রনজন বর্মন বলেন,” আমি বিভিন্ন অভিযোগ শুনছি। শীঘ্রই ইউএনও ও এসি ল্যান্ড স্যারের সাথে কথা বলে অভিযান চালানো যায় কি-না ভেবে দেখব”।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সিভিল সার্জন ডা.মো.নোমান মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ওখানকার টিএসআই কি করছেন? আমি বিষয়টি জানতাম না।আমি অচিরেই অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধে ব্যবস্থা নিব”।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি