নিকাহ রেজিস্ট্রারের সনদ দিয়ে ভাড়ায় ব্যবসা!

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়া। তিনি তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়ে জমজমাট ভাড়ায় ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ঢাকা আইনজীবী সমিতি এ কাজির নিয়োগ দেওয়া মো. সামসুল আলম শাহীন নামের এক ভুয়া কাজিকে টাউট হিসেবে আটক করে প্রতারণার মামলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে মো. সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়া নিয়োগপ্রাপ্ত। সনদ অনুযায়ী রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ২৮, জনসন রোর্ডের দ্বিতীয় তলায় তার কাজি অফিস। ব্যবসা বেশ জমজমাট হওয়ায় এ অফিস ছাড়া ১৪ নম্বর কোর্ট হাউজ স্ট্রিটেও তার একটি অফিস রয়েছে। সময় সুযোগ অনুযায়ী দুই অফিসেই তিনি বসেন। তবে তিনি নিজে কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রি করতে যান না। ৮-১০ জনকে তিনি তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারাই নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রির সমস্ত কাজ করেন। তিনি শুধু ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন এবং সহকারীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পকেটে ভরেন। ওই ওয়ার্ডের মধ্যে ঢাকার সদরঘটে জজ কোর্ট অঙ্গন হওয়ায় প্রতিদিন কোর্ট ম্যারেজের উদ্দেশ্যে শতাধিক বিবাহ ও তালাক ওই কাজি অফিসে হয়ে থাকে।

জানা গেছে, প্রতিদিন শতাধিক বিবাহ ও তালাক এ কাজী অফিসের মাধ্যমে হওয়ায় তিনি অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সহকারীদের নিয়োগ দিয়েছেন। সহকারীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক বিয়ের জন্য ৩০০-৫০০ টাকা এবং প্রত্যেক তালাকের জন্য ১০০-৩০০ টাকা তিনি নিয়ে থাকেন।

এদিকে, গত ২২ সেপ্টেম্বর টাউট হিসেবে গ্রেপ্তার হন কাজি সাদেক উল্ল্যাহর নিয়োগ প্রাপ্ত কাজি মো. সামসুল আলম শাহীন ও শাহীনের সহকারী আবু বকর সিদ্দিক। এ ঘটনায় ওই দিনই ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাদেকুল ইসলাম ভূইয়া জাদু কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। পরদিন ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠায় সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তারা কারাগারেই রয়েছেন। তবে ওই মামলায় অজ্ঞাত কারণে সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়াকে আসামি করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাউট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া মো. সামসুল আলম শাহীন ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়াকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ওই এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করার চুক্তি করেন। চুক্তিনামা অনুযায়ী শাহীন ২৩/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটস্থ মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতির নিচতলায় নিকাহ রেজিস্ট্রারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে তাকে সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়ার অন্য কোনো নিযোগকৃত সহকারী বাধা দিতে পারবেন না। তবে প্রত্যেক বিবাহের জন্য ৩০০ টাকা এবং প্রত্যেক তালাকের জন্য ১০০ টাকা কাজি সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়াকে তিনি দেবেন। আর নিকাহ ও তালাকের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সাদেক তাকে নিকাহ ও তালাকের ভলিয়ম সরবরাহ করবেন। ওই চুক্তিনামার ভিত্তিতেই শাহীন দীর্ঘ ১০ বছর নির্বিঘ্নে ২৩/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটস্থ মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতির নিচতলায় একটি কক্ষে নিকাহ রেজিস্ট্রারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। চুক্তিনামার একটি অনুলিপি প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে কাজি সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘কাজি তো আমি একজনই। সব কাজিই এভাবে সহকারী নিয়োগ করে কাজ করান।’ তিনি কারাগারে যাওয়া শাহীনের সঙ্গে প্রথমে চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বলেন, ‘১০ লাখ না, এক লাখ টাকা নিয়েছিলাম। ঠিকমতো বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রির টাকা না দেওয়ায় টাকাগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে।’

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন