ইতিহাসের সর্বনিম্নে ভারতীয় মুদ্রার দর, ১ ডলারে মিলছে ৮৬ রুপি

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান আরও কমে ৮৬ দশমিক ২০ এ দাঁড়িয়েছে, যাকে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায় বলা হচ্ছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে অর্থ প্রত্যাহার রুপির এই মান পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও দেশীয় শেয়ারবাজারের নেতিবাচক প্রবণতাও রুপির ওপর প্রভাব ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ভারতীয় রুপি আরও দুর্বল হয়ে ডলারের বিপরীতে ৮৬ তে নেমে যেতে পারে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই, সেই আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়। শুক্রবার ১৪ পয়সা পতন হয় রুপির।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের পুঁজিবাজার মহাসংকটে পড়েছে। রুপির এই দরপতনের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেরও পতন হচ্ছে লাগাতার। শুক্রবার সেনসেক্স ২৪১ দশমিক ২০ পয়েন্ট পড়ে ৭৬ হাজারের দোরগোড়ায় চলে এসেছে; ৭৭ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৯১ অঙ্কে নেমেছে। গত তিনদিনে সূচকটি পড়েছে মোট ৮২০ পয়েন্ট। বাজারের মূলধন কমেছে ১২ লাখ কোটি রুপি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট ১২ হাজার ৭৮৭ দশমিক ৭৩ কোটি রুপি পুঁজি তুলে নিয়েছে। সেটাই রুপির অবমূল্যায়নের অন্যতম কারণ।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এভাবে শেয়ার বিক্রি নিয়ে শুক্রবার মোদী সরকারের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হিসাব অনুযায়ী নতুন বছরের প্রথম কয়েক দিনেই শেয়ারবাজার থেকে ২০০ কোটি ডলারের পুঁজি তুলে নিয়েছে ওই সব বিদেশি ঋণদানকারী সংস্থাগুলো। ফলে সূচক আরও নিচে নেমেছে।

শুক্রবার শেষ হওয়া সপ্তাহে সেনসেক্সের নিট পতন হয়েছে ১ হাজার ৮৪৪ দশমিক ২ পয়েন্ট, নিফটির ৫৭৩ দশমিক ২৫। আপাতত রুপি ও শেয়ারবাজার—উভয়ই অস্থির থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাদের পরামর্শ, আপাতত শেয়ার কেনা বন্ধ রাখাই ভালো।

মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বাড়ছে এবং বন্ডের বিপরীতে অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর কমছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর সময়ের মধ্যে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হয়েছে, শেষ প্রান্তিকে যার পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০ কোটি) ডলার। এর আগের প্রান্তিকে ভারতে ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল। এসব কারণে রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

ফরেক্স বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামীতেও রুপির ওপর এমন চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। দেশীয় শেয়ারবাজারের দুর্বলতা, বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এই চাপের কারণ হবে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে পারে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি