,

আত্মহত্যার নেপথ্যে

killআন্তর্জাতিক ডেস্ক :বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রতিবছর ৮ লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যায়। অর্থাত্‍ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে। ২০০৪ সালে সারাবিশ্বে হওয়া এক গণনায় দেখা গেছে, অন্যান্য রোগের মতোই আত্মহত্যায় মারা গেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। বেশ কিছু দেশে আত্মহত্যা ১৫-৪৪ বছর বয়সী মানুষদের মৃত্যুহারের প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে তৃতীয় এবং ১০-২৪ বছর বয়সীদের মৃত্যুহারের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় কারণ। এর মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা গণনা করা হয়নি, যা সাধারণত আরো ঘন ঘন ঘটে। মানসিক রোগ (বিশেষ করে বিষণ্নতা ও অ্যালকোহল গ্রহণ) উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে আত্মহত্যার ঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ এবং এশীয় দেশগুলোতে আবেগতাহিত বিষয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনেক আত্মহত্যার পেছনে মূল কারণ হলো হতাশায় নিমজ্জিত হওয়া এবং ধ্বংসাত্মক কাজ করা। এটা জরুরি নয়, যে মানুষটি একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে সে বারবার চেষ্টা করবে। আত্মহত্যার চিন্তা ফেরত আসতেও পারে, তবে তা স্থায়ীভাবে নয়। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ফেরত নাও আসতে পারে।

এটা জেনে রাখা দরকার, খুব সামান্য কিছু আত্মহত্যাই হঠাত্‍ করে হয়। বেশির ভাগ মানুষই নিজেদের হত্যার আগে বেশ কয়েকভাবে জানান দেয়। কখনো সজ্ঞানে, কখনো আবার নিজের অজান্তেই। নিজের ক্ষতি করার সব হুমকিই গুরুত্বের সাথে নেয়া উচিত। সব আত্মহত্যাই হয়তো ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে বেশিরভাগই সম্ভব। যদি জানা থাকে আত্মহত্যার লক্ষণগুলো কী, অর্থাত্‍ একজন মানুষের মধ্যে কোন বিষয়গুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে সে আত্মহত্যার কথা ভাবছে – এটা যদি জানা থাকে তাহলে অনেক আত্মহত্যাই ঠেকানো সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা দেখেছেন, আত্মহত্যাকারী মানুষ আত্মহত্যা করার আগে নিচের আচরণগুলো প্রদর্শন করেছেন –

– নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে এমন কথা মাঝে মাঝে বলা। অথবা মরতে পারলে শান্তি পেতাম বা আমি যদি না জন্মাতাম তাহলেই ভালো হতো – এমন কথা বলা।

– সামাজিক সম্পর্ক ত্যাগ করে একাকী বসবাস করা।

– আত্মহত্যা করার উপকরণ যেমন ঘুমের ওষুধ, দড়ি, কীটনাশক ইত্যাদি সংগ্রহে রাখা।

– আবেগের দ্রুত ওঠানামা। একদিন চরম হতাশ তো পরের দিন অতি উত্‍সাহী।

– কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় হতাশ হয়ে পড়া।

– মৃত্যুচিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকা।

– মাদকের ব্যবহার বা মদ্যপানের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।

– নানা রকমের বেপরোয়া কাজ করা।

– মানুষকে এমনভাবে বিদায় জানানো যেন কোনোদিন আর তাদের সাথে দেখা হবে না।

– দিনযাপনের রুটিনে ঘন ঘন পরিবর্তন।

– কোনো বিশেষ ঘটনায় অপমানিত বোধ করা।

– নিজেকে পরিবার বা অন্যের বোঝা হিসেবে বিবেচনা।

ওপরের কয়েকটি লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে যদি কাউকে দিন দিন বেশি উত্তেজিত বা উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায় তাহলে বুঝবেন ওই ব্যক্তিকে নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। তার সাথে কথা বলুন, তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করুন।

এ জাতীয় আরও খবর

বিতর্কের জেরে সরানো হলো মেহজাবীন-পরীমণির ভুয়া ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক: জি এম কাদের

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল উন্নত প্রযুক্তির ১৮ রেলকোচ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

দুই মাস পর বড়পুকুরিয়া খনিতে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু

‘নুর হাসিনার পুত্র হলে, আসিফ-নাহিদরা নাতি’: আবু হানিফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য হ্রাসের আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, পরীক্ষার্থীর এক মাসের কারাদণ্ড

শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি