,

বাঞ্ছারামপুরে হারবাল প্রতারনায় আর্থিকক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

news-image

ফয়সল আহমেদ খান,বাঞ্ছারামপুর : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাটবার- এলেই শুরু হয়ে যায় হেকিমী ও আয়ূর্বেদীয় চিকিৎসার নামে ওষূধের নামে রং মিশ্রিত পানি ও আটা-ময়দা-সুজী বিক্রির প্রতিযোগিতা।সাথে সারা বছর ধরে চলে গাছের পাতা-ঢালে সাঁটানো হারবাল, দাওয়াখানা আর হোমিও চিকিৎসার মতো চিকিৎসালয়ের নানা নামের, নানা ঢঙ্গের কুরুচিপূর্ণ পোস্টার।

পোষ্টার,লিফলেট দেখে মনে হয় আজ সমগ্র বাংলা যেন যৌন রোগে আক্রান্ত। একশ্রেণীর লোক নিজেদের পকেট ভারি করতে গ্রামের সহজ-সরল ও খেটে খাওয়া মানুষদের নিঃস্ব করতে হাতিয়ায় হারবাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে তা দেয়ালে, দোকানে কিংবা গাছের বুকে কুরুচিপূর্ণ এবং অসঙ্গতিপূর্ণ পোষ্টার দেখলেই বুঝা যায়। যা দেখে যেমন লজ্জা পাচ্ছে অভিবাবক মহল তেমনি লজ্জা পাচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.শওকত ওসমান তথ্য মতে,তিনি অভিযোগ পেলেই অভিযান চালান বেআইনী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তিনি সদর উপজেলায় ভা¤্র্যমান আদালত পরিচালনা করে পৌর শহরের সামিয়া হারবাল ও কাজী হারবালের প্রত্যেককে নিয়মবিধি বহির্ভূত ওষূধ ও লাইসেন্স না থাকার কারনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।কিন্তু,ঐ টুকুই।দন্ডিত ফি দেয়ার এক ঘন্টার মধ্যে আবারো শুরু করে তাদের রমরমা ব্যবসা।এখনো সগৌরবে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা।

ওষুধ প্রশাসনের হেয়ালিপনা, আইনের ফাঁক-ফোঁকর ডিঙিয়ে এবং মানুষের গোপনীয় ও ব্যক্তিগত দুর্বলতা পুঁজি করে সারা দেশে ভেজাল, অকার্যকর ও মানহীন ঔষুধের রমরমা বানিজ্যে মেতে ওঠেছে হারবাল প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এসব হারবাল প্রতিষ্ঠানের কুচক্রের প্রভাব বইতে শুরু করেছে হাতিয়ার সহজ-সরল মানুষের দেহে।
এমনকি ভাগ্য ফেরানোর নামে গড়ে এঠা হারবাল, দাওয়াখানা এবাং হোমিও চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠানসমুহের ট্রেড লাইসেন্সটুকুও নেই। অথচ রাতারাতি টাকাওয়ালা বনে যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো। তারপরও ঔষুধ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। আর যদি নেয়ও তাতেও বিলম্ব হচ্ছে অনেকাংশে।

খোঁজ নিয়ে নিয়ে জানা যায়, লৌকিক-পারলৌকিক এ ব্যবসার মূল লক্ষ্য পাথর বিক্রয়। ক্ষেত্র বিশেষে এ পাথর কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এর বাইরে সাপের মণির নামে নেয়া হয় ১ থেকে ২০ হাজার টাকা।মূলত এগুলো বিক্রি করার জন্যই লোক সংগ্রহ করা হয়। তাদের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন অন্যতম লক্ষ্য।

১৯৮২ সালের ওষুধ অধ্যাদেশের ১৪ ধারা অনুসারে যে কোনো ধরনের ওষুধ বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও ওষুধ প্রশাসনকে কোনো তোয়াক্কা না করে কালো তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান অনেক আগ থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিভিন্ন টিভির ডিশ চ্যানেলে,মাইকিং,সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে।

তবে এসব ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অংশু কুমার দেব বলেন, যদি কোনো গ্রাহক লিখিতভাবে অভিযোগ করেন শুধু তখনি তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।নচেৎ এটি সিভিল সার্জেন এর আওয়াভুক্ত।

অন্যদিকে এধরনের প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনার জন্য কতটুকু সচেষ্ট প্রশাসন এব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঔষুধ তত্ত্বাবধায়কের সহকারী বলেন,‘আমরা এদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি এমনকি জেল জরিমানা করা হচ্ছে। তবুও বিভিন্নভাবে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে জনগনকে সচেতন হতে হবে।’

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে