,

মধ্যযুগীয় নির্যাতনে মৃত্যুর কাছে ফাতেমার হার

মোংলা প্রতিনিধি : স্বামী পরিত্যাক্ত হওয়ার পর চোখে অন্ধকার দেখতে থাকেন ফাতেমা। একসময় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার জনৈক দেলোয়ার তাকে প্রলোভন দেখান। আশ্বস্ত করেন ভালো বেতনে তাকে নিজের বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজ দেওয়া হবে। অভাবের তাড়নায় তাতে রাজি হন মংলা শহরতলীর স্বামী পরিত্যক্ত এই তরুণী। কে জানতো, সেখানেই তার জন্য অপেক্ষা করছিল মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতন!

গত ১৬ মার্চ সেখানেই গৃহকর্তাসহ পরিবারের সদস্যদের হাতে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মোংলার সিগনাল টাওয়ার এলাকার মোজাম সরদারের মেয়ে ফাতেমা।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, প্রায় ৯ মাস আগে রাজধানীর ঢাকার দক্ষিণ কোরানীঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় জনৈক দোলেয়ারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেন ফাতেমা। কোনও বেতন ছাড়াই পেটে-ভাতে কাজ করছিলেন তিনি। গত ১৬ মার্চ সকালে বাড়ির লোকজনের কাপড় ধুতে গিয়ে দুটি কাপড়ে অন্য কাপড়ের রং লেগে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্তা দেলোয়ার ও তার ছেলে আশিক ফাতেমাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে ফাতেমার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ছুড়ে দেন গৃহকর্ত্রী সালমা। এতে ফাতেমার শরীরে ফুঁসকা পড়ে।

অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে বাথরুমে আটকে রেখে পুরো শরীরে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।পরে ফাতেমার শরীর অগ্নিদগ্ধ হয়েছে বলে তার পরিবারকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়। এ অবস্থায় ঢাকায় তার কোনও চিকিৎসা না করেই ওইদিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট কারযোগে ফাতেমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার পরিবারকে আসতে বলেই পালিয়ে যায় গৃহকর্তা দোলোয়ারের পরিবার।

এদিকে, ফাতেমার স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফাতেমা। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার লাশ মোংলায় আনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত্যুর আগে হাসপাতালে স্বজনদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দেন ফাতেমা। তার এ বর্ণনা মোবাইলে ধারণ করা হয় ভিডিওসহ। ওই বর্ণনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাতেমা নিজেকে বাঁচানোর অকুতি জানান। আর আগুন আগুন বলেই কাঁদতে দেখা যায় তাকে। ফাতেমা জানান, প্রথমে বাড়ির গৃহকর্তা দেলোয়ার ও তার ছেলে তাকে মারধর করেন। পরে গৃহকর্ত্রী সালমা শরীরে ফুটন্ত পানি ছুড়ে মারেন। প্রতিবেশীরা যাতে না জানতে পারে সে কারণে বাথরুমে আটকে রাখা হয় তাকে। নিহত ফাতেমার বড় বোন অরুনা বেগম জানান, যে বাড়িতে কাজ করছিলেন ফাতেমা সেই বাড়ির গৃহকর্ত্রী তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় । ভালো কাজ ও বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কাজে নেন গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী। তিনি ছোট বোনের ওপর চালানো নির্মম এ নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।

ফাতেমার ছোট ভাই ইউনুছ সরদার বলেন, “আমাকে গৃহকর্ত্রী সালমা ফোন করে বলেন, ‘তোমার বোনের গায়ে আগুন লেগেছে। তুমি তাকে নিতে আস। ‘ পরের দিন জানায়, ফাতেমাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দগ্ধ বোনকে ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। গত চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ফাতেমা মারা গেছে। ”

মংলা থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে নিহত ফাতেমার বাড়িতে পুলিশ প্রাথমিক ঘটনা অনুসন্ধান করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়। ” তিনি বলেন, “ফাতেমাকে নির্মম নির্যাতনসহ আগুনে পুড়িয়ে দগ্ধ করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। “

এ জাতীয় আরও খবর

সংকট-দুর্যোগে প্রবাসে থেকেও জনগণের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, হতাহতের ঘটনা

ভারতে মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় নিহত ১৫

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হচ্ছে ক্যানসার শনাক্তকরণ

সমতা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় সরকার

নেত্রকোণায় মুখোশধারীদের গুলিতে যুবক আহত

বাগেরহাটে ভাড়া বাসা থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট

এনবিআরের নিয়োগে ঢাকা বিভাগের ১২ জেলা বাদ দেওয়ার অভিযোগ

আইয়ুব বাচ্চুর যে স্বপ্ন পূরণ হয়নি

বাংলাদেশকে ২০০ রানও করতে দিল না জিম্বাবুয়ে

কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলন, প্রাণ গেল ১৯ জনের