,

সরাইলে মাদরাসা ছাত্র জুনাঈদ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার-১

Grafter-2মাহবুব খান বাবুল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদরাসা ছাত্র জুনাঈদ (১০) কে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে খোকন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা এখন ডিবিতে।সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর সিদ্দিক সদর ইউনিয়নের কুট্রাপাড়া খেলার মাঠ সংলগ্ন মহাসড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে জেলা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মম ভাবে হত্যার দশ দিন পর একজন গ্রেপ্তার হওয়ায় জনমনে অনেকটা স্বস্থ্যি ফিরে এসেছে। ডিবি ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত খোকন টিঘর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মাহফুজ মিয়ার ছেলে। জুনাঈদ ও খোকন একই গ্রামের বাসিন্ধা। বিভিন্ন কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুনাঈদকে অপহরণ এবং হত্যার সাথে খোকনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার পর সরজমিনে মাদরাসায় গেলে ওই এলাকার বাসিন্ধা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক মহিলা জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে এক বখাটে যুবককে(২৫) মাদরাসার পাশে দাঁড়িয়ে সবুজ রং-এর পাঞ্জাবী পায়জামা পড়া এক ছাত্রের সাথে কথা বলতে দেখেছি। পরে জানতে পেরেছি ওই যুবকটির বাড়ি টিঘর গ্রামে। এ ছাড়া টিঘর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, জুনাঈদ অপহরণের পর থেকেই ঘা ঢাকা দিয়েছে খোকন। এ ছাড়া ঘটনার পর জিডি ও গ্রামে জুনাঈদের বিষয়ে যা-ই করা হতো সেই খবর দ্রুত চলে যেত অপহরণকারীদের কাছে। প্রসঙ্গতঃ গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার আছরের পর ও মাগরিবের পূর্বে যে কোন সময় সরাইল সদরের দারুল উলুম আলীনগর মাদরাসার ইয়াজদহম শ্রেণীর ছাত্র জুনাঈদ অপহরণ হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরাইল বিকাল বাজারের মসলা ব্যবসায়ি জুনাঈদের চাচা নাজমুল হকের (৪৮) মুঠোফোনে ফোন করে অপহরনকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। মুক্তিপণ না দিলে জুনাঈদকে হত্যার হুমকি দেয় তারা। পরে আবার এক লাখ টাকা দাবী করে। ঘটনার রাতেই (শনিবার) জুনাঈদের  চাচা নাজমুল হক বাদী হয়ে মোবাইল নাম্বার গুলো উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরাইল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। ওই রাতে ও পরের দিন রোববার সারা দিন জুনাঈদের স্বজনরা অপহরণকারীদের নির্দেশনা মতে পুলিশ ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে যান। কিন্তু জুনাঈদকে পাননি তারা। ১৪ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে অপহরনকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে গ্রাম থেকে চাঁদা উঠিয়ে ২০ হাজার টাকা পাঠায়। দাবীকৃত আরো ৮০ হাজার টাকা না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয় অপহরণকারী চক্র। ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে কালিকচ্ছের ধর্মতীর্থ এলাকায় দীঘির পাড় সংলগ্ন আকাশী হাওরে জুনাঈদের লাশ দেখতে পায় লোকজন। পুলিশ জুনাঈদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিস্পাপ শিশুকে মাদরাসা থেকে অপহরণের একদিন পর হত্যার ঘটনায় স্তদ্ধ হয়ে যায় গোটা সরাইল। চরম আতঙ্ক, উৎকন্ঠা ও উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। এ ঘটনায় জুনাঈদের পিতা রফিকুল হক (৫২) বাদী হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত কিছু লোককে আসামী করে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হওয়ায় মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার সাথে সাথে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তের জন্য ডিবিতে প্রেরন করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ নূরুল আমীন একজনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মূহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।  
 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর