,

ঐতিহ্যবাহী শুঁটকির মেলা

Sotki-3নাসিরনগরের কুলিকুণ্ডা গ্রামে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বসেছে ব্যতিক্রমধর্মী শুঁটকির মেলা। প্রায় দুই শতাধিক নানান জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
এসব পসরায় রয়েছে বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুড়ি, লইট্টা, পুটি ও টেংরাসহ নানান জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি। এছাড়াও পার্শবর্তী দেশ ভারত থেকেও আমদানি করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির শুটকি। বাহারি শুঁটকির আকর্ষণে দূর-দূরান্ত থেকে ভোজন রসিকরা মেলায় আসেন শুটকি কিনতে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চিরায়িত বাংলার পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মঙ্গলবার পালিত হলো পহেলা বৈশাখ। আর নতুন বছরের এই দিনে প্রতি বছরের মতো এবারও জমেছে কুলিকুণ্ডার ঐতিহ্যবাহী তিনদিনের শুটকি মেলা। কবে মেলার প্রথম আয়োজন তা জানা না গেলেও প্রতি বছরই পালিত হচ্ছে এই মেলা। মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আনন্দের বন্যা।
 
স্থানীয় লোকজন ও শুটকি ব্যবসায়ীরা তাদের শত বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলার আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমদানি করা শুটকি এ মেলায় বিক্রি হয়। মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন। সামুদ্রিক অনেক বিরল জাতের মাছের শুঁটকি ছাড়াও ইলিশ ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন মাছের ডিমের শুটকি উঠেছে এই মেলায়। আর নানান জাতের শুটকি কেনা ও বেচার জন্য বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভিড় জমায় এই মেলায়।
মেলায় আসা একাধিক লোকজন জানান, প্রায় দুইশ বছরেরও অধিক বেশি সময় ধরে এ মেলা বসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ী ছাড়াও ভোজন রসিকরা আসে এ মেলায়। এই মেলার ইতিহাস অনেক পুরনো।
 
শুটকি কিনতে আসা সোরাপ মিয়া জানান, আমি আমার ছোটবেলা থেকে এই মেলা দেখে আসছি। আমার বাবার মুখেও শুনেছি তিনিও তার ছোটবেলা থেকে এই মেলা দেখে আসছে। এই মেলা আমাদের নাসিরনগরের ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করে।
শুটকি ব্যবসায়ী সঞ্জিবন ও মদন মোহন জানান, আমরা আমাদের ছোটবেলা থেকে এই মেলায় দোকান নিয়ে আসি। এই মেলায় এবার আমরা বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুড়ি, লইট্টা, পুটি ও টেংরাসহ নানান জাতের দেশীয় মাছের তৈরি শুঁটকি নিয়ে আসছি। তবে বোয়াল, শোল ও বাইম মাছের শুটকি বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিজ মিয়া জানান, এদিনে নাসিরনগরের প্রতিটি ঘরে তাদের আত্মীয় স্বজনরা আসেন দাওয়াত খেতে। আর মেলা থেকে কেনা শুটকি রান্না করে খাইয়ে আপ্যায়ন করা হয় তাদের। আর এই রেওয়াজ প্রায় শতাধিক বছরের পুরোনো।
 
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, এই মেলা কবে থেকে শুরু হয়েছিল তা জানা যায়নি। তবে নাসিরনগর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার শুটকি ব্যবসায়ীরা আসেন এই মেলায়। বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের শুঁটকিই এই মেলায় বেশি। মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন।

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা