,

দেশের বাইরে ভারতের দুর্দশা চলছেই

5303541e3e2b1-Outside-Indiaজীবনানন্দ দাশ বহু আগেই লিখেছিলেন, ‘আমি ক্লান্ত প্রাণ এক’। কবির পঙক্তি ধোনির ক্ষেত্রে খুব যায়। গত কয়েকটি বছর বিদেশের মাটিতে সিরিজ হারতে হারতে ধোনি বোধ হয় ক্লান্তই! পরাজয়ের পথ কেবল দীর্ঘই হচ্ছে। এ পথ আরও কতটা হাঁটতে হবে কে জানে!



সর্বশেষ ওয়েলিংটন টেস্টের কথাই ধরা যাক। তৃতীয় দিনেও ম্যাচ হেলে ছিল ভারতের দিকেই। কেননা ভারতের বিপক্ষে ইনিংস হার এড়াতে নিউজিল্যান্ডের তখনো দরকার ১৯৪, হাতে ৭ উইকেট। ৭ থেকে ৫ হলো ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের চোখের সামনেই। মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে আবারও ব্যাটিংয়ে নামাতে তখনো দরকার ১৫২ রান!

ম্যাককালামের লড়াইটা শুরু সেখান থেকেই। ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে খেললেন চিরজীবী এক ইনিংস—৫৫৯ বলে ৩০২। 



নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস, একই সঙ্গে ব্ল্যাক ক্যাপসদের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। তৃতীয় দিনেও যেখানে মনে হচ্ছিল, বেসিন রিজার্ভে ভারতের বাঁধনহারা উদযাপন অবধারিত। সেখানে পঞ্চম দিনে দৃশ্যটা ঠিক উল্টো—ম্যাচ ড্র করে বিদেশের মাটিতে আবারও সিরিজ পরাজয়ের তেতো স্বাদ নিয়ে ম্লান বদনে মাঠ ছাড়তে হলো ভারতকে।



‘দেশে বাঘ, দেশের বাইরে বিড়াল!’ এই অপবাদ এক সময় ছায়াসঙ্গী ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিল। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে সেই অপবাদটা অনেকটা মুছেও গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ভারত যেন সেই পুরোনো খোলসেই ঢুকে পড়তে শুরু করল। গত তিন বছরে বিদেশের মাটিতে ভারতের পারফরম্যান্স অন্তত সে ইঙ্গিতই দেয়।



বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে ভারত বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচটি জিতলেও এর পরই দেশের বাইরে ভারতের কাছে জয় পরিণত হয় সোনার হরিণে। ২০১১ সালের ইংল্যান্ড সফরে ধোনির দল রীতিমতো ধবলধোলাইয়ের শিকার। নতমস্তকে ইংল্যান্ড ছাড়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও রেহাই মেলেনি। সেবার ধোনির দলকে উপর্যুপরি ধবলধোলাই করে মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়াও।



টেস্টে টানা আট পরাজয়ের ধকল বোধ হয় আর সইতে পারছিল না ভারত। তাদের বাঁচিয়ে দেয় এফটিপি। মাঝখানে টানা ২২ মাস বিদেশের মাটিতে আর টেস্ট খেলতে হয়নি ভারতকে। ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি অ্যাডিলেড টেস্টের পর দেশের বাইরে ভারত পরবর্তী টেস্ট খেলে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর, জোহানেসবার্গে। টেন্ডুলকার-উত্তর যুগের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চতুর্থ ইনিংসে ৪০০-এর বেশি লক্ষ্য দিয়েও পরাজয় চোখ রাঙানি দেখতে হয় ভারতকে, শেষ অবধি ড্র-তেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকা আরেকটু সাহসী হলে রান তাড়া করে জেতার বিশ্ব রেকর্ডই হয়তো করতে পারত। ওই টেস্টটা ড্র হলেও জ্যাক ক্যালিসের বিদায়ী ম্যাচটা কিন্তু ঠিকই জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে সিরিজিটা গ্রায়েম স্মিথের দলকেই দিয়ে আসতে হয় ভারতকে।



এরপর নিউজিল্যান্ড সফরেও একই দুর্দশা। আজ ব্ল্যাকক্যাপসদের কাছে সিরিজ খোয়াতে হলো ১-০ ব্যবধানে। সব মিলে ২০১১ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি—এ সময়ে ভারত বিদেশে টেস্ট খেলেছে ১৫টি, হেরেছে ১০টি, ড্র ৩টি আর জিতেছে মাত্র ১টি। ওই ‘সবেধন নীলমণি’ জয়টা এসেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।



কেবল টেস্টই নয়, গত তিনটি বছর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—ক্রিকেটের এই দুই সংস্করণেও বারবার পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই দেশে ফিরতে হয়েছে ধোনির দলকে। ক্রিকেট বিশ্বে আর্থিক শক্তির জোরে মাঠের বাইরে দাদাগিরি করার ক্ষেত্রে ভারতের ধারেকাছে ঘেঁষার ক্ষমতা নেই কারও। কিন্তু ওই একই ক্ষমতা ব্যবহার করে মাঠে ম্যাচ জেতা কঠিনই বৈকি—সেটিই আরেকবার প্রমাণিত হলো ওয়েলিংটন টেস্ট শেষে!

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর