করোনায় গরু খামারিরা ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কিত

news-image

ধামরাই প্রতিনিধি : সামনে ঈদুল আযহা। গরুগুলো বিক্রি করতে হবে ঈদের আগেই। তবেই না লাভের টাকা আসবে ঘরে। তাই শেষ সময়ে শ্রমিকদের ওপর নির্ভর না হয়ে পরিবারের সকলেই মিলে ব্যস্ত গরুর সেবা ও মোটা-তাজাকরণে। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে একটি খামার গড়ে উঠেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার একেবারেই নিবৃতপল্লী ললিতনগর গ্রামে। মৃত শওকত হোসেনের ছেলে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের বাড়িতে এই খামার।

এ খামারে এক একটি গরুর ওজন হবে প্রায় ৫ মণ থেকে শুরু করে ৪০ মণ পর্যন্ত। এই খামারে ৫০টি ষাঁড় গরু রয়েছে। এ খামারের ভেতর ঢুকতেই ষাঁড়ের যে হাকডাক, তা হঠাৎ শুনলে ভয় পেতেই হবে। তবে খামারের স্বত্তাধীকারি আমজাদ হোসেন সামনে গেলে একেবারেই চুপচাপ হয়ে যায় গরুগুলো।

এ খামারে গরুগুলো লালন পালন করতে ৪ জন শ্রমিক রয়েছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি নিজেদেরও পরিচর্যা করতে হয়।

খামার মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, ২ বছর আগে স্থানীয় হাট থেকে ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের ৫০টি গরু প্রায় ১ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করি। ৪ বছর ধরে নিজের মতো করে খামার গড়ে তুলেছি।

দেশীয় ব্যবস্থায় গরুগুলোকে লালন-পালন প্রসঙ্গে আমজাদ হোসেন বলেন, গরুগুলোকে কাচা ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিজস্ব ৮ বিঘা জমিতে ঘাস রোপণ করেছি। এ ঘাসের পাশাপাশি প্রতিদিন কলা, ছোলা, খড়, ভুট্রা, আলু, মিষ্টি আলু, ভুষি ও খুদ দিনে ৫ থেকে ৬ বার খাওয়ানো হয়। গরুগুলো বিশাল আকৃতির হওয়ায় তাদের শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ২ থেকে ৩ বার গোসল করানো হয়।

এছাড়াও গরুগুলো সারাক্ষণ বাতাসের মধ্যে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে।

বিক্রির ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গরুর মালিক আমজাদ বলেন, প্রতি বছর ভালো লাভেই বাড়ি থেকে গরু বিক্রি হয়ে যায়। এই বছর করোনার প্রভাবে সারাদেশ নিস্তব্ধ। কারণ প্রতি ঈদের আগেই ক্রেতারা বাড়িতে চলে আসে। এবার তার কোন সাড়া পাচ্ছি না। আমার প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ৪ জন শ্রমিক খামারে কাজ করে। তাদের থাকা খাওয়া আমার ওপর। তারপরও প্রতি জনকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। এবার আশা করেছিলাম সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা বিক্রি হবে। তা এখন শুভঙ্করের ফাঁকি! এবার লোকসান গুণতে হবে। ক্রেতার কোন সাড়া নেই।

আমজাদ হোসেনের খামারের বিশেষত্ব হলো, রাজা বাহাদুর নামে একটি বিশাল আকৃতির হহলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই গরুর ওজন প্রায় ৪০ মণের মতো হবে। আমজাদ হোসেনের মা শখ করে এই গরুর নাম রেখেছে রাজা বাহাদুর।

এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ান, পাঞ্জাব, নেপালি, সিন্দি, শাহিওয়াল ও দেশীয় জাতের গরু রয়েছে। প্রতিদিন নিজ গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ এই গরুগুলোকে দেখতে আসে। বিশেষ করে রাজা বাহাদুরকে।

রাজা বাহাদুরের দাম সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরুটির দাম ১৫ লক্ষ টাকা হলে বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, করোনার প্রভাবে দাম নিয়ে খুব শঙ্কিত আছি। যদি করোনার প্রভাব ঈদের আগে একটু শিথিল না হয় এবং দেশের বাইরে বিশেষ করে ভারত থেকে গরু না আসে, হয়তোবা একটু দাম আশা করা যায়।

চিকিৎসাসেবা সর্ম্পকে জানতে চাইলে খামারের মালিক আমজাদ বলেন, আমি আজও পর্যন্ত উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার দেখা পাইনি। তাই স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই খামার পরিচালনা করছি।

এ জাতীয় আরও খবর

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছেলেটাই ভোগালেন বাংলাদেশকে

শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা ৯ নভেম্বর

এই নারী আমার স্ত্রী নন : গোলাম মাওলা রনি

এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলি, সেনা সদস্য আহত : আইএসপিআর

নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ জনও জড়ো হবেন না: রাশেদ খাঁন

নিউইয়র্কে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ প্রাণহানি

ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের

তিনি শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন-সর্বমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী: নাহিদ ইসলাম

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ