এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: আরও তিন আসামির স্বীকারোক্তি

news-image

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে অভিযুক্ত আইনুদ্দিন ছাত্রলীগ পরিচয়ে নগরীর টিলাগড় এলাকায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়েছে। ‘বন্ধুত্বের’ সূত্রে বহিরাগত আইনুদ্দিনের সঙ্গে ঘটনার দিন প্রথমে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় ধর্ষণের শিকার তরুণীর। এ সময় আইনুদ্দিনের সঙ্গে তার বন্ধু রাজন মিয়াও ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর টিলাগড় এলাকার একটি বাসায় ওই তরুণীকে নিয়ে তারা বেশ কিছু সময় কাটায়। এই খবর পেয়ে প্রধান আসামি সাইফুরসহ অন্য আসামিরা জোর করে স্বামীসহ তরুণীকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে চারজন মিলে তরুণীকে ধর্ষণ করে।

চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় শনিবার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এদিন মাহবুবুর রহমান রনি, আইনুদ্দিন ও রাজন মিয়া পৃথক আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুর দেড়টায় তিন আসামিকে তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে নিয়ে আসেন। এরপর তারা স্বীকারোক্তি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে বিচারক তাদের ভাবনাচিন্তার সময় দেন। সন্ধ্যা ৬টায় জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে আলোচিত এই ধর্ষণ মামলায় সর্বশেষ গ্রেপ্তার দুই আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুমেরও ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ জন্য শনিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দুই আসামিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতাল ল্যাবের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) জ্যোতির্ময় সরকার জানান, এই মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামির সবার ডিএনএ পরীক্ষা হবে। বৃহস্পতিবার ছয়জনের নমুনা সংগ্রহ করার পর শনিবার শেষ দু’জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলো।

পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তারেক ও মাসুমকে আবার পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে এই দু’জন বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। রোববার তাদের রিমান্ডের মেয়াদ শেষে আদালতে হাজির করা হবে বলে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। তারেক এ মামলার ২ নম্বর ও মাসুম ৬ নম্বর আসামি।

এমসি কলেজের প্রধান ফটক থেকে তারেক গাড়ি চালিয়ে তরুণীকে ছাত্রাবাসে নিয়ে গিয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে মাসুম ছাত্রাবাসে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তরুণীর স্বামীকে আটকে রাখে। এই সুযোগে গাড়িতেই তাকে ধর্ষণ করা হয়।

শনিবার তিন আসামি নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনার পর আসামিরা স্বীকারোক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান আসামি রাজনের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। এ ছাড়া আইনুদ্দিন মহানগর হাকিম (দ্বিতীয়) সাইফুর রহমান ও মাহবুবুর মহানগর হাকিম (তৃতীয়) শারমিন খানম নীলার আদালতে জবানবন্দি দেয়। এ সময় প্রত্যেক আসামি সেদিনের ঘটনায় নিজেদের ভূমিকার পাশাপাশি অন্যদের সম্পৃক্ততার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

গত শুক্রবার রাতে প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দির সঙ্গে শসিবার স্বীকারোক্তি দেওয়া তিন আসামির বক্তব্যের মিল রয়েছে বলে আদালত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্ব যোগাযোগের সূত্রে আইনুদ্দিন ও রাজন তরুণীকে ডেকে এনেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামলার বাদী ও তরুণীর স্বামী আইনুদ্দিনের সঙ্গে স্ত্রীর ‘বন্ধুত্বের’ কথা জানিয়েছিলেন। সেদিন আইনুদ্দিনের জন্য অপেক্ষা করার সময় প্রধান আসামি সাইফুর, অর্জুন, তারেকসহ অন্য আসামিরা তাদের জোর করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। এ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের মামলায় রাজন ও আইনুদ্দিন ছাড়া গ্রেপ্তার সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সার্বজনীন বহুমুখী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ফ্রি অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ

মার্কিন কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ

রাজধানীর ৫ হাসপাতালে চালু হচ্ছে পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নত চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

চুলে নজরকাড়া সাজ, পূর্ণিমা যেন অষ্টাদশী তরুণী!

‘ম্যাজিক বস’ নিলয় আলমগীর

আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরীমনি

১৩১ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান মাহমুদ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশ আহত

এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি

হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহানকে কারাগারে রাখার আবেদন