অবহেলায় কালুরঘাটে কোটি টাকার ফেরী নষ্ট

news-image

 চট্টগ্রামের বোয়ালখালী অংশে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতুর পাশে কর্ণফুলী নদীতে দুটি ফেরী ও আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র প্রায় ৪ বছর ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বালু মহালের অবৈধ বালু খেঁকুরা নদী থেকে বড় ইঞ্জিনচালিত বুট (বগেট) দ্বারা বালু তুলে এনে সওজের ফেরীর সাথে লাগিয়ে এগুলোকে যে যেমন ইচ্ছা ব্যবহার করেই চলেছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের অবহেলায় এভাবে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় প্রায় নষ্ট হতে চলেছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। বছরের পর বছর এভাবে পড়ে থাকলেও যেন কেউ দেখার নেই। কালুরঘাট সেতু মেরামতের কাজ শেষ করার ৪ বছর পার হয়ে আবারো সেই কালুরঘাট সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পুনঃমেরামতের সময় হলেও এ কাজে সহযোগিতাকারী সওজের এসব ফেরী এখান থেকে নেয়া হয়নি এখনো।জানা যায়, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতুর সংস্কারের সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য বিকল্প পথের অংশ হিসেবে সেতু লাগোয়া দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সওজ কর্তৃপক্ষ প্রথমে দু’টি ফেরী সংযুক্ত করে। পরবর্তীতে গাড়ি চলাচলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এবং পুরোনো ফেরীগুলোয় যান্ত্রিকত্রুটি দেখা দিলে এতে আরো ১টি নতুন ফেরী সংযুক্ত করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। প্রায় ৩ মাস কাজ করার পর পুনরায় কালুরঘাট রেলওয়ে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মোক্ত করে দিলে সওজ কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয় এখানকার ফেরী সার্ভিস। আর সেই থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৪ বছর এ ফেরী এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র এলোমেলো ও বিক্ষিপ্ত অবস্থায় অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এক বছর পর ২০১৩ সালে ৩টি ফেরী থেকে ১টি ফেরী প্রায় অর্ধ নষ্টাবস্থায় সওজ কর্তৃপক্ষ  সেখান থেকে নিয়ে গেলেও বাকি ২টি ফেরী এখন প্রায় নষ্ট হতে বসেছে। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে অবহেলা-অনাদরে অরক্ষিত পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টি ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ার-ভাটার পানিতে প্রায় নষ্ট হতে চলেছে সরকারের কোটি টাকার এসব সম্পত্তি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন ধরনের তদারকি না থাকায় ফেরীগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ একেক দিন একেকটি করে খোঁয়া যাচ্ছে। দিন-দুপুরে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও টুকাইরা। ইতোমধ্যে ফেরীর ইঞ্জিনের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে এবং জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকতে থাকতে যাত্রীদের বসার স্থান, ছাউনি, চালকের ঘর, রেলিং, ইঞ্জিন ঘরের প্রায় অংশ এখন নষ্টের পথে। অন্যদিকে মাটি ও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এর বেশ কিছু অংশ। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, চোখের সামনে এভাবে দেখতে দেখতে যেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ। এনিয়ে কিছু বলতে গেলেই কিছু অসাধু দুষ্টুচক্র বলে বেড়ায়- যেন মা’র থেকে মাসির দরদ বেড়ে গেছে। সওজের এমন নির্লিপ্ততা দেখে আবার অনেকেই বলেন, সরকারিকা মাল-দরিয়া মে ঢাল। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম বলেন, ৩টি ফেরী থেকে আগে একটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানে ২টি থেকে একটির ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নিয়ম অনুযায়ী নিলামে দেয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

চালকদের জন্য বিআরটিএর নতুন নির্দেশনা

হাদি হত্যার বিচারসহ ৩ দাবিতে চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’

অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

তল্লাশি নিয়ে বিরোধে পুলিশকে পিটিয়ে ক্যাম্পাসে নিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

নতুন পরিচয়ে আসছেন দীপা খন্দকার

মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

এবার ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ তুললেন প্রভা

২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ বাংলাদেশের

নতুন বাজারে বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে একদিনেই উধাও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার

ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির